October 20, 2019

স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ চাঁদপুরের গৃহবধুর মৃত্যু

xyzএ কে আজাদ, চাঁদপুর : গত চার দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লরে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলো অগ্নিদগ্ধ চাঁদপুরের গৃহবধু দিপিকা আচার্য্য। চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলায় গত ৩০ এপ্রিল শ^শুর বাড়িতে দীপিকা আশ্চার্য্যের গায়ে কেরোসিন ঢেলে তার স্বামী বিপুল আচার্য্য আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়।

চার দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় দীপিকার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই অরবিন্দ আচার্য্য।

এ ঘটনায় দীপিকার ভাই অরবিন্দ আচার্য্য বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গৃহবধুর স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

দীপিকাকে অগ্নিদগ্ধের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী বিপুল আচার্য্য (৩৫), ভাই আচার্য্য (৪৫) ও মা সন্ধ্যা আচার্য্য (৬০) আটক করে হাজিগঞ্জ থানা পুলিশ।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি আলমগীর হোসেন রনি জানান, অগ্নিদগ্ধ দীপিকা নিহত হওয়ার খবরটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আটক ৩জন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তার ভাই অরবিন্দ আচার্য্য যে মামলাটি করেছে, তাতে হত্যার চেষ্টা ও হত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে।

ওসি জানান, গত ৩০ মে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বকুলতলা রোডের দীপিকা আচার্য্যকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় আটক ৩ জনকে শুক্রবার চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। দীপিকা আচার্য্য মনিকার বাড়ি নরসিংদী জেলার মাধবদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ছোট মাধবদী গ্রামে।

তিনি আরো জানান, দীপিকার শরীর আগুনে পুড়ে যায়। তার জবানবন্দি নেওয়ার জন্য হাজীগঞ্জ থানার এসআই সঞ্জয়কে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। দীপিকা জানিয়েছেন, তাকে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন স্বামীসহ শ^শুরবাড়ির ৪ সদস্য।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান জানান, দীপিকার শরীরের ৯২ ভাগ পুড়ে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন দীপিকার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বক্তব্যে তাকে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান দীপিকা। সে আলোকে থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে।

দীপিকার বড় ভাই অরবিন্দ আচার্য্য মুঠোফোনে জানান, বিপুলে আমার বোনের শরীরে আগুন লাগানোর পূর্বে তাকে মারধর করেছে। তার মাথা ও কপাল ফেটে গেছে। আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে হত্যার চেষ্টা করে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভগ্নিপতি বিপুলের পারিবারিক একটি জায়গা বিক্রির চেষ্টা চলছে। আমার বোন দীপিকা বিক্রিতে বাঁধা দিয়ে আসছিল।

এসব কারণে গত ৩০ এপ্রিল গভীর রাতে দীপিকার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বিপুলসহ তার পরিবারের সদস্যরা। একে দুর্ঘটনা বলে চালানোর জন্য তারা তাকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে ওইদিনই তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নেয় তারা।

Related posts