December 07, 2019

নারায়ণগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশে আগুন

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দিনদুপুরে কুপিয়ে হত্যার পর লাশে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লাশে আগুন দেওয়ার পর ফ্ল্যাট বাসার বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে ঘাতক।

শনিবার দুপুরে উপজেলার সোনাকান্দা ত্রিবেণীপুলসংলগ্ন আমিনুল হক মনার মালিকানাধীন মাবিয়া ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর নাম নাইমা রহমান (৩৫)। তিনি থাইল্যান্ড প্রবাসী আনিসুর রহমানের স্ত্রী। ঘটনার সময় নিহতের মেয়ে আনুশী রহমান (১৫) এবং ছেলে নাফিজ রহমান (৮) স্কুলে ছিল। দুপুর পৌনে ২টার দিকে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে ফ্ল্যাটের তালা খুলে আনুশী তার মায়ের পরিধেয় কাপড়ে আগুন জ্বলতে দেখতে পায়। হতবিহ্বল হয়ে সে দ্রুত পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে চিৎকার করে। এর পর পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ছুটে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ দেড়শ’ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা বঁটি, মানিব্যাগ এবং একটি সিগারেট উদ্ধার করেছে। দিনদুপুরে ফ্ল্যাট বাসায় ঢুকে হত্যাকাণ্ডের কথা ছড়িয়ে পড়লে পুরো সোনাকান্দা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর পুলিশ ধারণা করছে, খুনি গৃহবধূর পূর্বপরিচিত। এ কারণেই সে খুন করে পালিয়ে যাওয়ার আগে ফ্ল্যাট বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে যায়। তবে দিনদুপুরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হলেও পাশের একাধিক ফ্ল্যাটের কারও কিছু টের না পাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। কিন্তু প্রতিবেশী ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াদের দাবি, পরিবারটির সঙ্গে তাদের তেমন যোগাযোগ ছিল না। আর ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ থাকলে ভেতরে কী হচ্ছে সেটি বোঝার উপায় নেই। দুপুরের যে সময়টায় ঘটনাটি ঘটেছে, ওই সময়ে সবাই দুপুরের খাবার নিয়ে ব্যস্ত থাকে অথবা খাবারের পর ঘুমিয়ে সময় পার করে।

নিহতের মেয়ে এবং বন্দর গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী আনুশী রহমান পুলিশকে জানিয়েছে, তাদের ফ্ল্যাটের তিনটি চাবি। একটি তার মায়ের কাছে, একটি তার কাছে এবং অন্যটি মামা কামরুল ইসলামের কাছে থাকত। গতকাল সকাল ১১টায় সে স্কুলে চলে যায়। দুপুর দেড়টায় টিফিনের জন্য বিরতি দিলে সে বাসায় ফিরে আসে। পৌনে ২টার দিকে বাসায় ফিরে ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ দেখে কাছে থাকা চাবি দিয়ে সে তালা খুলে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। ফ্ল্যাটে ঢুকেই সে পোড়া গন্ধ পেয়ে ভেতরের রুমে গিয়ে মেঝেতে মায়ের নিথর দেহ এবং পরিধেয় কাপড়ে আগুন জ্বলতে দেখে। ওই সময় দ্রুত বাথরুম থেকে পানি এনে সে গায়ের আগুন নেভায় এবং চিৎকার করে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।

বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার করা মানিব্যাগে এক যুবকের ছবি পাওয়া গেছে। মানিব্যাগ এবং সিগারেটের সূত্র ধরে খুনিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। খুনি নিহতের মাথায় বঁটি দিয়ে একাধিক আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করেছে। এর পর আলামত নষ্ট করতেই পরিধেয় কাপড়ে আগুন ধরিয়ে ফ্ল্যাট বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। যেহেতু নিহতের মেয়ে দুপুর পৌনে ২টার দিকে বাসায় ফিরে লাশের গায়ে আগুন জ্বলতে দেখেছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে দুপুর সোয়া ১টার পর যে কোনো সময় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। তাছাড়া খুনি নিহতের পূর্বপরিচিত, যে কারণে খুব সহজেই কেউ বাসায় না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সিদ্ধান্তটি ছিল তাৎক্ষণিক। তা না হলে হত্যার পর হত্যায় ব্যবহূত বঁটি এবং নিজের মানিব্যাগ ঘটনাস্থলে ফেলে যেত না। ফ্ল্যাটে প্রবেশের পর কোনো কিছু নিয়ে গৃহবধূ নাইমার সঙ্গে খুনির ঝগড়া হয় এবং ঝগড়া থেকেই তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। বাসার কোনো কিছু খোয়া গেছে কি-না সে বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তাছাড়া প্রতিবেশী, নিহতের মেয়ে ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে খুনের মোটিভ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Related posts