October 20, 2019

চালক না থাকায় চাঁদপুরের নৌ এ্যাম্বলেন্স ২টি পরিত্যক্ত পড়ে আছে

w-3এ কে আজাদ, চাঁদপুর : চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের বিভিন্ন চরাঞ্চলের রোগীদেরকে দ্রুত চিকিৎসার স্বার্থে তাদের যাতায়াতের জন্য চাঁদপুর ৩ আসনের মাননীয় সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির অনুরোধে ২টি নৌ এ্যাম্বুলেন্স চাঁদপুরে প্রদান করা হয়। ইতিমধ্যে ড্রাইভার নিয়োগ না দেওয়া একটি এ্যাম্বুলেন্স খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গত অক্টোবর মাসে প্রধান মন্ত্রীর দেওয়া আরেকটি এ্যাম্বুলেন্সও ডাকাতিয়া নদীর তীরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে সেটিও নষ্ট হবার পথে। সরকার লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে সাধারণ জনগনের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বার বার উদ্যোগ নিলেও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে সবই ভেস্তে যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুরুত্ব সহকারে দেখবেন-এটাই ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা। উল্লেখ্য সাধারণ জনগণের অর্থাৎ চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে চরাঞ্চলের লোকদের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত নিশ্চিতে ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর অত্যাধুনিক একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা । চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের চরাঞ্চলের রোগীদের পরিবহনের জন্য বিশেষ ভুমিকা রাখার এই নৌ এ্যাম্বুলেন্সটি শুধু মাত্র একজন ড্রাইভার নেই বলে নষ্ট হওয়ার পথে । বর্তমানে অত্যাধুনিক এই নৌ এ্যাম্বুলেন্সটি ডাকাতিয়ার তীরে পরিত্যক্ত অবস্থা পড়ে আছে । এ বিষয়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কর্মকর্তা টিএলসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এই এলাকার চরাঞ্চলের রোগীদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নৌ এম্বুলেন্স চাইলে তিনি এই নৌ এম্বুলেন্সটি প্রদান করেন । কিন্তু দূরভাগ্য একজন চালকের অভাবে আমরা এখন পর্যন্ত এই এ্যাম্বুলেন্সটি চালাতে পারি নাই । তিনি আরো বলেন, কমিনিউটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের কাছে আমরা এই নৌ এ্যাম্বুলেন্সটি চালানোর জন্য একজন ড্রাইভার ও তেলের বরাদ্ধ চেয়েছিলাম । ট্রাস্ট আমাদেরকে তেল ক্রয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেছে। কিন্তু ড্রাইভার নিয়োগের ব্যাপারে নিষেধ থাকায় সেই তৈল ক্রয়ের টাকা আমরা আর উত্তোলন করি নাই । বর্তমানে নৌ এ্যাম্বুলেন্সটি শহরের মুখার্জিঘাট এলাকায় ডাকাতিয়ার তীরে রাখা আছে। রাতের বেলায় এটিকে দেখবাল করার জন্য আমাদের কোন নাইট গার্ডও নেই । ইতিমধ্যে এ্যাম্বুলেন্সটির একটি গ্লাসও ভেঙ্গে গেছে বলে তিনি জানান । তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউ এইচ এন্ড এফপিও ডা: সাজেদা বেগম বলেছেন, এটাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখার জন্য । মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী চাঁদপুরে আসছেন তিনি এসে এ্যাম্বুলেন্সটি দেখতে পারেন । তাই এটাকে এখন পরিস্কার করার ব্যবস্থা করবো আমরা । এদিকে ‘চালকের অভাবে’ দীর্ঘ ১২ বছরেও চালু করতে পারেনি আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের নৌ-এ্যাম্বুলেন্সটি। প্রায় দীর্ঘ ১২ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে অযতেœ অবহেলায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় অর্দ কোটি টাকার সরকারি সম্পদটি নষ্ট হয়ে গেছে। জানাযায় ২০০৮ সালে সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নদী মার্তৃক চাঁদপুর বাসির জন্য সরকারি হাসপাতালে এ অত্যাধুনিক নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি প্রদান করা হয়েছিল। বিভিন্ন চরাঞ্চলের রোগীদেরকে দ্রুত চিকিৎসার স্বার্থে চালকের পদ সৃষ্টি কিংবা চালক না থাকায় সেটি এখন অকেজো হয়ে পরে আছে। নৌ এ্যাম্বুলেন্সটির বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আনোয়ারুল আজিম জানান, এ্যাম্বুলেন্সের ইঞ্জিন খুলে গোডাউনে রাখা হয়েছে, ইঞ্জিন দুটুই নষ্ট হয়ে গেছে । বডিটাও নষ্ট হয়ে পরে আছে। চালক নিয়োগ না থাকায় এত দামী একটি এ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে গেছে । আমাদের মাননীয় সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার ফসল চাঁদপুর সদরের চরাঞ্চলের মানুষের জন্য দেয়া এই নৌ এম্বুলেন্সটি যেন নষ্ট হয়ে না যায় সেদিকে নক্ষ রাখার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তাদের দৃষ্টি কামনা করছি।

Related posts